আল কুরআনের তথ্য গোপনের সুযোগ আছে কি?

এম শায়েস্তা খান
———————————————————-
মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
নিশ্চয় আল্লাহ কিতাবে যা নাযিল করেছেন তা যারা গোপন করে এবং বিনিময়ে সামান্য কিছু ক্রয় করে, তারা তাদের পেট আগুন ভিন্ন অন্য কিছু দিয়ে ভরে না, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (বাকারা/২ : ১৭৪)

ব্যাখ্যা: কোনো জিনিসের বিনিময়ে কিছু ক্রয় করার অর্থ হলো- ঐ জিনিসের বিনিময়ে কিছু পাওয়া। আর ক্ষতি এড়ানোর অর্থ হলো- কিছু পাওয়া। আর ছোট ক্ষতি এড়ানোর অর্থ হলো- অল্প কিছু পাওয়া। আর বড় ক্ষতি এড়ানোর অর্থ হলো- বড় কিছু পাওয়া।

আবার ক্ষতি এড়ানো একটি ওজর বা বাধ্যবাধকতা। তাই, আল্লাহ এখানে বলেছেন- তিনি কুরআনে যে সব বিধান নাযিল করেছেন, ছোট ক্ষতি (ওজর) এড়ানোর জন্য যারা জানা সত্ত্বেও সেগুলো বলে না বা মানুষকে জানায় না, তারা যেনো তাদের পেট আগুনে ভরলো।

কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না। ঐ দিন এটি একটি সাংঘাতিক দুর্ভাগ্য হবে। আর তাদের পবিত্র করা হবে না। অর্থাৎ তাদের ছোট-খাট গুনাহও মাফ করা হবে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ মানুষের ছোট-খাট গুনাহ মাফ করে দিবেন। কিন্তু যারা কুরআন জেনে তা গোপন করবে, তাদের তা করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।

তাই, কুরআন জেনে তা মানুষকে না জানানোর জন্য কিয়ামতে যে কঠিন অবস্থা হবে, তা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের হয়েও এ বিষয়ে কলম ধরা উচিৎ, বক্তব্য দেয়া উচিৎ।
———————————————————————
কুরআনের বক্তব্যগুলোকে কিভাবে উপস্থাপন করা যায় এটা নিয়ে অনেকেই দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। কিন্তু সকলে যদি সূরা আরাফের ২নং আয়াতটি সামনে রাখেন-
অর্থ: এটি একটি কেতাব যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হলো, সুতরাং এর মাধ্যমে সতর্কীকরণের ব্যাপারে তোমার মনে যেনো কোনো সংকোচ (দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ভয়-ভীতি ইত্যাদি) না থাকে এবং মু’মিনদের জন্য এটা উপদেশ ।

ব্যাখ্যা: কুরআনের বক্তব্য দিয়ে মানুষকে সতর্ককারী সাধারণ মানুষের অন্তরে দুটো অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে-
১. সঠিক অর্থ বা ব্যাখ্যা না বুঝার কারণে কুরআনের বক্তব্যের যথার্থতার ব্যাপারে মনে সন্দেহ বা দ্বিধা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থা অপেক্ষাকৃত কম।
২. বক্তব্য বিষয়টি যদি সমাজের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যশীল বা বিপরীত হয়, তবে প্রতিরোধ বা বিরোধিতার সম্মুখীন হওয়া অথবা বেতন, দান-খয়রাত বা নজর-নিয়াজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় হতে পারে। এ অবস্থাটি খুবই বিরাজমান।
—————————————————————–
এ দুই অবস্থাকে বিশেষ করে ২য় টিকে এড়ানোর (Overcome) জন্য সাধারণ প্রবণতা হচ্ছে, কুরআনের যে বক্তব্যগুলো সমাজের প্রচলিত ধারণার বিপরীত, সেগুলোকে লুকিয়ে ফেলা অথবা তার বক্তব্যকে এমনভাবে ঘুরিয়ে বলা যাতে বিরোধিতা কম আসে বা সবার জন্য তা গ্রহণযোগ্য হয়। এটি বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের দুরবস্থার একটি প্রধান কারণ।

কুরআন দিয়ে মানুষকে সতর্ক করার ব্যাপারে এই ভীষণ ক্ষতিকর কর্মপদ্ধতি দু’টো সমূলে উৎপাটন করার জন্য আল্লাহ এই আয়াতে রাসূলের (সা.) মাধ্যমে মুসলিমদের বলেছেন, মানুষকে সতর্ক করার সময় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ভয়-ভীতি ইত্যাদির মধ্যে পড়ে তোমরা কখনই কুরআনের বক্তব্যকে লুকিয়ে ফেলেব না বা ঘুরিয়ে বলবে না।

এআর/সুর্ণবার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *