জীবনের ডিজাইন!

ড. মো. কামালউদ্দিন  

আমরা জীবনের কঠিন সময় পার করছি। জানি না, এ সময় কখন শেষ হবে! প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। স্বাভাবিক সময়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। প্রচন্ড মানসিক চাপ! আমরা পৃথিবীকে দেখছি নতুন রূপে।

কেউ কী কখনো অন্ধকার ঘরে হেঁটেছেন! নিজের বিছানায় যাওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না! কখনো অন্ধকার ঘরে কোনো কিছুর সাথে হোঁচট খেয়েছেন! কারো সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছেন! আসলে উজ্জ্বল আলোতে জিনিসগুলি দেখতে সহজ হয়। আমাদের পথ চলাচল সহায়ক হয়। তবে যখন আমরা কম আলো দিয়েও কোনো স্থান অতিক্রম করি তখন তা চোখের সাথে মানিয়ে নিতে পারে, সময় লাগে!

আমাদের জীবনেও উজ্জ্বল সময় থাকে। যখন সবকিছুতে স্পষ্টতা থাকে। আমরা পরিস্থিতি দেখতে পারি। আর যখন আমরা জীবনের অন্ধকার পর্যায়ে চলে যাই, তখন পরিষ্কার করে দেখতে পারি না। সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে! আমরা বিভ্রান্ত হই! আমরা আশা হারিয়ে ফেলি! কিন্তু আমাদের জীবনের এই পর্যায়ে যদি আমাদের ভালো বিশ্বাস ও সমর্থন থাকে, আমরা যদি ধৈর্য ও অধ্যবসায় করতে পারি, তাহলে শীঘ্রই আমাদের জীবনের এই অন্ধকার কেটে যাবে, এমনকি আমরা শিখতে পারবো কীভাবে আমাদের পথ তৈরি করবো! বিজয়ী হবো!

আসলে জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি সবার কাছে একরকম নয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন ওনার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। একটি গল্পের সাহায্যে বিষয়টি পরিষ্কার করা যায়। ৮-১০ বছরের একটি শিশু তার মাকে জিজ্ঞেস করে মা তুমি কি করছো? মা বললেন, নকশি কাঁথায় ডিজাইন করেছেন! ফুল তুলছেন! ছোট্ট শিশু মাকে বললো মা তুমি যা করছো তাকে তুমি ডিজাইন বলছো! এটা কোন ধরনের ডিজাইন! তুমি একটি সুন্দর কাপড়কে এলোপাথাড়ি সুতো দিয়ে শুধু নষ্ট করছো! জগাখিচুড়ি করছো! মা হেঁসে বললেন, বাবা তুমিতো উল্টোদিক থেকে আমার ডিজাইন দেখছো! সেই জন্য তোমার কাছে জগাখিচুড়ি মনে হচ্ছে! মিনিংলেস মনে হচ্ছে! তুমি আমার দিক থেকে দেখো, আমি কত সুন্দর করে নকশা করছি! ছেলেটি মায়ের দিক থেকে দেখলো আর সে আশ্চর্য হলো! মা কী সুন্দর ফুল তুলছেন! অনেক সুন্দর!

আমাদের জীবনটাই এরকম। আমরা জীবনকে কীভাবে দেখছি! আমরা যদি আমাদের দৃষ্টিতে দেখি, তাহলে আমাদের কাছে মনে হবে পুরো জীবনটাই যেন জগাখিচুড়ী। আর আমরা যদি জীবনটাকে সৃষ্টিকর্তার দিক থেকে দেখি তাহলে এটিই হচ্ছে জীবনের নকশা! ডিজাইন! আমাদের কাছে যেটা জগাখিচুড়ী হয়তোবা তা সৃষ্টিকর্তার কাছে বিউটিফুল ডিজাইন। আর এ হচ্ছে জীবনের রসায়ন। আসুন জীবনের এই ডিজাইন মানি! আত্মবিশ্বাস বাড়াই!

লেখকঃ অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়।   

Updated: July 18, 2020 — 6:51 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *