সুবর্ণচরে পল্লীবিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং

আরিফুর রহমানঃ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই, তবুও চলছে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সর্বত্রই অসহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং। একদিকে করোনা মহামারী অন্যদিকে পল্লীবিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং, সব মিলিয়ে জনমনে অশান্তি বিরাজ করছে। সময় অসময়ে এমন লোডশেডিংয়ের কারণে নাজেহাল সুবর্ণচরে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস বলছে মাঝে মধ্যে যান্ত্রিক ও কারিগরী ত্রুটির কারণেই এই লোডশেডিং হচ্ছে। আর সাধারণ গ্রাহকদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেতে চান তারা।

জানা গেছে, এ করোনাকালে দেশের বেশিভাগ কলকারখানা বন্ধ তবুও কেনো এত লোডশেডিং তা নিয়ে জনমনে শংকা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে  বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকা সত্বেও নিয়মিত দিনে গড়ে ১০-১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকেনা সুবর্ণচরে।

সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জানান, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারনে হাসপাতালটিতে অসহ্য গরমে রোগীরা ছটফট করে। তাছাড়া করোনাকালিন সময়ে বিদ্যুতের এরকম খেল তামাশার কোনো মানে হয় না। বিদ্যুৎ না থাকায় হাত পাখায় বাতাস করতে করতে হাত ব্যাথা হলেও দেখা মেলে না বিদ্যুতের।

সমাজ উন্নয়ন কর্মী সাখাওয়াত  উল্যাহ শিপলু বলেন, সুবর্নচরে পল্লীবিদ্যুতের অপরিকল্পিত লাইন নির্মান ও সমিতির অব্যাবস্থাপনার কারনে লোডশেডিং হয়। সুবর্নচর পিক ও অফপিক আওয়ারে যে বিদ্যুত পায় তা দিয়ে দিনে একটি লাইনে ১ ঘন্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা না। কিন্তু লাইন জটিলতা যেমন আমাদের ফিডারে লাইন প্রায় ৭০ কিঃমিঃ। যা এক সুইচে চলে। উক্ত লাইনের কোথাও সমস্যা হলে লাইন বন্ধ থাকে। লাইন বড় হওয়ায় চেক করে মেরামত করতে সময় লাগে। যদিও প্রায় ১ বছর আগে বিকল্প লাইনের টেন্ডার হয়েছে কিন্তু এখনো কাজ শুরুই হয়নি। যদি বিকল্প লাইন তৈরি হয় তাহলে অনেকটা ভোগান্তি কমবে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে অনেকবার এবিষয়ে যোগাযোগ করেছি। বিভিন্ন কারনে কাজ হচ্ছে না। তার মধ্যে মূল কারন এটা মেইন লাইন। এ লাইন নির্মানে দালাল এবং বিদ্যুত বিভাগের লোকজন কোন কমিশন পাবে না।

চরবাটার পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহক সুইট খান বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ একেতো লোডশেডিং তারপর ভুতুড়ে বিল।অতিষ্ঠ সুবর্ণচরবাসী। দিনদিন বিদ্যুতের ইউনিট বিল বাড়াচ্ছে অথচ লোডশেডিং কমাচ্ছেনা।

অন্যদিকে সুবর্ণচরের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি অহসনীয় গরমের সময়ে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই চলছে অসহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে করোনা’র মহামারিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ তাই বাচ্চাদের একটু বেশী কেয়ার নেয়া হচ্ছে কিন্তু প্রায় সময় বিদ্যুৎ চলে যায় এতে করে বাচ্চাদের পড়ার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার সংসদ টিভিতে নিয়মিত ক্লাস সম্প্রচার করছে কিন্তু এ যন্ত্রণাদায়ক লোডশেডিংয়ের ফলে শিক্ষার্থীরা উক্ত ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না।

গ্রাহকরা আরও জানান, প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং চলে। এভাবেই এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কোনো কোনো সময় লোডশেডিং এত দীর্ঘ সময় ধরে চলে যে, বাসাবাড়ির ফ্রিজের খাবার, মাছ, মাংস নষ্ট হয়ে যায়। বেশিরভাগ সময় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ৩-৪ ঘণ্টায়ও আসে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেতে চান তারা। তাই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

এদিকে বিদ্যুৎ নিয়মিত সরবরাহ না থাকলেও গ্রাহকদের মাস শেষে ঠিকই বিল দিতে হয়। চরবাটা খাসের হাট রাস্তার মাথার ব্যবসায়ী এসএম কাজল বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কিছুদিন পর পর ৩৩ কেভি লাইন মেরামত ও গাছ কাটার নামে বিনা নোটিশে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে।

প্রসঙ্গে জানতে সুবর্ণচর পল্লীবিদ্যুত সমিতির সভাপতির মুঠোফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

Updated: August 4, 2020 — 10:57 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *