প্রচ্ছদ

বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ

খাদ্য সংকট মোকাবেলায় ব্যপক ভূমিকা রাখতে পারে

জি.এম. সিরাজ উদ দৌলাঃ করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আজ খাদ্য সংকট চরম আকারে দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাস সৃষ্ট এ মহামারির কারণে বিশ্ব মুখোমুখি হয়েছে অভাবনীয় এক সংকটে। বিশ্বযুদ্ধের পরে প্রাণঘাতী করোনার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে নতুন করে বিশ্ববিপর্যয়ের আভাস মিলছে।

জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, করোনার পরবর্তী দিনগুলোতে বিশ্বমন্দার ভয়াল থাবার পাশাপাশি হানা দিতে পারে দুর্ভিক্ষ। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যটি পূরণ করতে বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশকে এ সার্বিক বিপর্যয়ের মোকাবেলা করতে হবে কৃষি খাত দিয়ে। এ আভাসটুকু মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে। চলমান সংকটে তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সর্বাগ্রে জোর দিয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চিত করার উপর। তারই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার কৃষিবিভাগসহ এ অঞ্চলের মানুষগুলো কৃষিখাতের উপর গভীর মনোযোগ দিয়েছেন।

 কৃষি জমি ছাড়াও বাড়ির আঙ্গিনায় করছে সবজি চাষ। এ ছাড়া পতিত জমিতে উপজেলার কৃষি বিভাগের পরামর্শে বারো মাস জুড়ে হচ্ছে সবজি চাষ। উপজেলার ৭নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের যোবায়ের বাজার সংলগ্ন হুদু সারেং বাড়ির আঙ্গিনায় দেখা মিলছে বেশ কিছু চাষাবাদকৃত সবজি।

বাড়ির আঙ্গিনায় উৎপন্ন মিষ্টি আলু হাতে উৎফুল্ল বাড়ির ছোটরাও। ছবি: সুর্ণবার্তা

হুদু সারেং এর গৃহিনী ছালেহা বেগম জানান, সারাবছরই তাঁর বাড়ির আঙ্গিনায় শাক সবজি উৎপাদিত হয়ে থাকে। তাঁর সন্তানরা এ শাকসবজি উৎপাদনে কাজ করে থাকেন। তিনি আরো জানান, সারাবছরই নিজেদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে লালশাক, ডাটাশাক, পুইশাক, কলমিশাক, মিষ্টি আলু শাক, ঢেড়শ, গাজর, বরবটি, টমেটো, লাউ ও লাউশাক, পাটশাক, শশা, কাঁচকলা, বেগুন, পেপে, করলা, কচুশাক, কচুর লতি, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা ইত্যাদি পরিচিত শাকসবজি উৎপাদিত হয়ে থাকে। এছাড়া উপজেলা জুড়ে হচ্ছে শাকসবজি উৎপাদন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কৃষিতাত্তি¡ভাবে রবি (শীতকাল) ও খরিপ (গ্রীষ্মকাল)- এ দুধরনের মৌসুম রয়েছে। খরিপের আবার দুটি ভাগ, যথা- খরিপ-১ (আগাম গ্রীষ্ম) এবং খরিপ-২ (বর্ষাকাল)। তবে শীতকালীন শাকসবজির মধ্যে বাহারি ও রকমারি বৈচিত্র একটু বেশি। শুধুমাত্র শীতকালে উৎপাদিত হয় এমন ফসলগুরোর মধ্যে রয়েছে- টমেটো, শীতলাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, সীম, মূলা, ব্রকলি, বাটিশাক, ওলকপি, শালগম, বেগুন, গোল আলু ইত্যাদিই প্রধান।

অপরদিকে শুধুমাত্র গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে উৎপাদিত হয় এমন ফসলের মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন ধরনের কচু, করলা, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া ইত্যাদিই প্রধান। সবজি ফসল উৎপাদন অন্যান্য ফসলের মতো নয়। সবজি ফসল উৎপাদনের জন্য বিশেষ ধরনের যতেœর প্রয়োজন হয়। আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আবাদ করতে গেলে অল্প পরিমাণ জায়গায় অধিক পরিমাণ ফসল ফলিয়ে লাভবান হওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষি পণ্য বিপণনকারী সমাজ কল্যাণ স্টোরের সত্তাধিকারী সাংবাদিক এ,কে,এম ইব্রাহিম খলিল উল্যাহ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কৃষিখাতে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা আমাদের নোয়াখালী সুবর্ণচরে পরিলক্ষিত করা যাচ্ছে। বাড়ির উঠোন জুড়ে হচ্ছে সবজি চাষ। সার, বীজ, কীটনাশকও দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের বিনামূল্যে। স্থানীয় পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে বেশকিছু উদ্যোগ। কৃষির উপর দেওয়া হচ্ছে জোড় তাগিদ। যাতে করে চরম সংকট আমরা অচিরেই কাটিয়ে উঠতে পারি। চরম খাদ্য সংকট মোকাবেলায় উপজেলার কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে সরকার ঘোষিত বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। প্রতিটি বাড়ির আনাচে কানাচে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান। যাতে করে এক টুকরো জমিও অনাবাদী না থাকে। দুর্ভিক্ষকে প্রতিহত করতে যে কোনো উপায়ে হোক খাদ্য উৎপাদন। অব্যাহত রাখতে হবে।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারলে উপজেলার প্রয়োজন মিটানোর পাশাপাশি অন্যদেরও সহযোগিতা করা সম্ভব হবে বলে আরো জানায়।।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপিরাইট সুবর্ণবার্তা !!
Close
Close