মুক্তচিন্তা

বিদ্যুৎ আসা ও যাওয়া দায়ী কে…?

গত ২৮ মে বৃহস্পতিবার জেলার করোনা পরিস্থি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী। জনাব এমপি সেদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের উপর। মেজাজ খারাপ করে নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুতের ফাজলামি যেন বন্ধ হয়। তাঁর পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মী, অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও খোদ জেলা প্রশাসক নিজেও ক্ষুদ্ধ হয়েছেন, বলেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কৈফিয়তই গ্রহণযোগ্য নয়।

করোনা কালীন পুরো দেশের ন্যয় নোয়াখালীর মানুষও আতংকিত। দিন দিন এ জেলায় আক্রান্তের হার বাড়ছে। কোথায় গিয়ে ঠেকবে কে জানে ! বেশিরভাগ মানুষ ঘরে অবস্থান করছেন। ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে চেষ্টা করছেন আতংক কাটিয়ে দিনগুলো পার করতে। প্রচন্ড গরমে মানুষ ঘরেও পাগল প্রায়। এর মধ্যে বিদ্যুতের লাগামহীন ফাজলামি মানুষকে দিশেহারা করে দিচ্ছে।

আমি জেলা শহর মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মোক্তার মসজিদ সংলগ্ন থাকি। পুরো করোনাকালীন সময় যতক্ষণই বাসায় ছিলাম প্রতিদিন অন্তত ৩-৫বার করে বিদ্যুৎ চলে যেতে দেখেছি। চেয়ে চেয়ে দেখতাম, কিন্তু কিছুই বলার ছিল না। পুরো রমজান মাসতো এমনও হয়েছে ইফতারের সময় হলো তো- ঠিক তখনই জনাব বিদ্যুৎ আউট। এভাবে দেখছি, মেনে নিচ্ছি। বিদ্যুতের ফাজলামি মেনে নিয়েই পার করছি গরম কাল। একদিন অসহ্য হয়ে গেলাম। তখন দেখি বিদ্যুত বিভাগের কিছু পালাইতে পারি কিনা- ফোন মারলাম পিডিবি মাইজদী বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে তিনি জানালেন বাতাস ও বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সমস্যা করে। কিন্তু বৃষ্টি বা বাতাস যখন থাকে না তখন এমন করে কেন? এ কথা কিন্তু আমি ভয়ে বলিনি- কারণ উনি বড় কর্তা, আমি ইয়ে পালানো সংবাদকর্মী। আকাশ কালো তো বিদ্যুৎ নেই, অতিরিক্ত গরম তো বিদ্যুৎ নেই। কেন? এ বিদ্যুৎ না থাকার পিছনে কি শুধু বৃষ্টি, বাতাস, অতিরিক্ত গরমই দায়ী? নাকি দায়ী তদারকি। এর জন্য গালি খাচ্ছে কে? সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের কিছুই যায় আসে না। তাই এর কারণ কি তা খতিয়ে দেখা উচিত। কেন বিদ্যুৎ এমন করে। এতে আখের সরকারেরই ভাবমুর্তি খুন্ন হচ্ছে।

শুধু জেলা শহর নয়, চারদিক থেকে খবর পাচ্ছি জেলা শহরের চেয়ে বেশি বাজে অবস্থা পল্লী বিদ্যুতের। কোথাও কোথাও দুইদিনও বিদ্যুৎ থাকে না। সুবর্ণচর, কবিরহাট, চাটখিল এসব জায়গা থেকে ফোন আসে, তথ্য দাতারা জানান এসব উপজেলায় নাকি কখনও বিদ্যুৎ যায়না- মাঝে মাঝে আসে। বিদ্যুৎ লাইন শুধু ঘরে ঘরে পৌঁছালে হবে না, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই বিদ্যুতের সুফল পাওয়া যাবে না।

লেখক- সুমন ভৌমিক, নোয়াখালী প্রতিনিধি,দৈনিক বনিক বার্তা ও চ্যানেল২৪

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপিরাইট সুবর্ণবার্তা !!
Close
Close