শুভ জন্মদিন ড. মো. কামাল উদ্দিন

শাহিন সিরাজ

 

পদবীতে বড় হলেই যে, কেউ বড় মাপের মানুষ হবে তা বলা কঠিন। বড় মাপের মানুষ হতে হলে দরকার বড় মনের মানুষ হওয়া। বড় মাপের মানুষ হতে হলে মানুষের সাথে মিশতে হয়,বিপদ আপদে মানুষের পাশে দাড়াতে হয়, সমাজের মানুষের উপকারে আসতে হয়। জীবনে অনেক মানুষকে দেখেছি যারা পেশাগত জীবনে অনেক উপরে অবস্থান করছেন বা করেছিলেন কিন্তু সমাজের মানুষের নিকট তাদের তেমন কোন গ্রহনযোগ্যতা নেই বা ছিলোনা। আবার অনেকেই আছেন যারা আদতে বড় কেউ নই কিন্তু সমাজে বেশ গ্রহনযোগ্য ব্যক্তির মর্যাদা পান। আসলে কে সমাজের কাছে বড় বা গ্রহনীয় মানুষ তা নির্ভর করে ঐ ব্যক্তির ইচ্ছা এবং মানুষিকতার উপর। আবার অনেকেই আছেন যারা চাইলেই সমাজের মানুষের গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে বা সামাজিক ভাবে গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি হতে পারেন না। এর বহুবিদ কারন আছে। হতে পারে ইচ্ছা থাকলেও কারো কারো পক্ষে সব সময় সমাজের মানুষের পাশে দাড়ানো সম্ভব হয়না। আমি নিজেই তাদের দলের একজন। পেশাগত কারনে চাইলেও বাড়ি যেতে পারিনা, সকলের সাথে সমান ভাবে মিশতে বা সময় দিতে পারিনা। অবশ্য অনেকেই আছেন যারা সামাজিক ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য প্রচুর সময় দেন কিংবা টাকা পয়সা দু হাতে খরচ করেন। আর কিছু মানুষ আছেন তাদের হৃদয় এমনিতেই প্রশস্থ, জনপ্রিয়তার পিছনে তাদের কে ছুটতে হয়না জনপ্রিয়তাই তাদের পিছনে ছুটে। তবে যে মানুষ সমাজের উপকারে আসেনা তিনি যত বড়ই হোন না কেন মানুষের মনে তার জন্য ভালোবাসা জন্মেনা। সুবর্ন চরের কয়েকজন মানুষ আছেন যারা আমার অতি প্রিয় ও সম্মানের চোখে যাদের অবস্হান। আমি তাদের শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি, তবে সব সময় প্রকাশ করিনা। আসলে জীবনটা খুবই ছোট। সকলের সাথে মিলিমিশে থাকতে পারাটাই সাফল্যের তথা আনন্দের। একলা সুখি হওয়ার মাঝে তেমন আনন্দ নেই। যে অর্জন বা যে আনন্দে সমাজ খুশি হয় বা যে আনন্দ সকলের সাথে ভাগ করে নেয়া যায় সেটাই উপভোগ্য আনন্দ। যা বলছিলাম। ভালো মানুষ হলেই যে কেউ গ্রহনযোগ্য বা জনপ্রিয় ব্যক্তি হবে তাও বলা মুশকিল। আসলে একজন মানুষ যখন নিজ পরিমন্ডল ভেদ করে বৃহত্তম সামাজিক পরিমন্ডলে প্রবেশ করেন তখনি তিনি জনপ্রিয়তার প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করেন। তিনি যখন সামাজিক পরিমন্ডল ধীরে ধীরে আপন পদচারনাই মুখরিত করে রাখতে সক্ষম হন তখন তিনি হয়ে উঠেন জনপ্রিয় এবং সামাজিকভাবে গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি। কবি কামিনী রায় বলেছেন ” আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে”। পবিত্র কুরআনে বহু আয়াতেই মানুষের পাশে থাকার কথা উদ্ধৃত হয়েছে। এমনকি মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ) তার সারা জীবন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যয় করেছেন। সুতরা যিনি মানুয়ের পাশে থাকতে পারেন সুখে দুখে হাসি আনন্দে, তিনিই আমার চোখে প্রকৃত মানুষ, সত্যিকারে বড় মাপের ব্যক্তিত্ব। আজ এরকম একজন মানুষের জন্মদিন যিনি জীবনের অল্প সময়েই নিজেকে নিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়, আপন আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন চারপাশ। তিনি চিন্তায়, কর্মে প্রমান করেছেন তিনি একজন অনন্য উচ্চতার মানুষ তিনি ডিঙিয়েছেন কুপমন্ডকতার অন্ধকার, ফুটিয়েছেন আলো, রঙিন হয়েছে শত স্নেহাস্পদের চলার পথ। তিনি আমাদের আগামী দিনের বটবৃক্ষ, স্বপ্নের সারথী, এক টুকরো সুবর্ন মাটির নিরেট নিখাঁদ অলংকার। তার জন্মদিনে রইল শুভকামনা, হৃদয়ের গহীনের নিসৃত ভালোবাসা। শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভাই। আপনার নেক হায়াত কামনা করছি।।।

লেখকঃ জজ, সদর আদালত, চাদঁপুর।

Updated: September 30, 2020 — 11:36 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *