Featuredকৃষি ও কৃষকপ্রচ্ছদ

সুবর্ণচরে করোনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বারটানের সেমিনার

নিজের বাড়িতে এবং বাড়ির আশে-পাশে জমিতে শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে চাষ করার জন্য সেমিনারে উৎসাহিত করা হয়।

কামাল চৌধুরী- করোনা কালীন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও ইনস্টিটিউট (বারটান) এর সুবর্ণচর নোয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ জুন অনুষ্ঠিত সেমিনারে ‘‘রোগ প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্যের জন্য দৈনিক ক্যালরি গ্রহন ও অনুপুষ্টি উপাদানের ভূমিকা” শীর্ষক প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর সেমিনারে  বারটান আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারটানের সুবর্ণচর নোয়াখালী আঞ্চালিক কার্যালয়ের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা  ড. মোহাম্মদ জহির উল্যাহ, প্রধান আলোচক হিসবে উপস্থিত ছিলেন বিএডিসি সুবর্ণচর নোয়াখালীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুল আলম, বিশেষ অতিথী ছিলেন বিনার সুবর্ণচর নোয়াখালীর আঞ্চালিক কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: শেফাউর রহমান, সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম, সলিডারিডেড প্রোগ্রাম অফিসার মো: সাইফুল্ল্যাহ, সিনিয়র সাংবাদিক কামাল চৌধুরী, ইব্রাহিম খলিল উল্যাহ, সাংবাদিক আব্দুল বারী বাবলুও জহির উদ্দিন তুহিন।

সেমিনারে বক্তারা করোনা রোগ সহ বিভিন্ন রোগে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার উপর জোর দেন। এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমন-ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, বিটা-ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম যুক্ত খাবার খেতে বলেন। তাছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন আদা, রসুন, মধু, কালজিরা খাওয়ার কথা বলা হয়। সুষম খাদ্যের মধ্যে রোগ প্রতিরোধক সস্তা খাবার হল কচুশাক, সীম, বাঙ্গি, বেগুন, পুঁইশাক, কাঠাল, পেয়ারা, আনারস, পেঁপে, লেবু, আমলকি, গাজর, ফুল কপি, কামরাঙ্গা, লাউ, লাল শাক, পালংশাক, করলা, হেলেঞ্চা শাক ও টমেটো।

সুষম দামী খাবারের মধ্যে ডিমের কুসুম, দৈ, দুধ, আম, পাকা পেঁপে, পনির, লিচু, কলিজা এবং সকল ফলমূল। শক্তিদায়ক সস্তা খাবার মধ্যে মোটা চালের ভাত, মিষ্টি আলু, কচু, গোল আলু, তৈল, গুড়, ভুট্রা, নারিকেল। শক্তিদায়ক দামী খাবার যেমন- সরু চালের ভাত, কেক, মুড়ি, মধু, মাখন, বিস্কুট, পাউরুটি, ঘি, খোরমা খেজুর, কিসমিস, জিলাপী, মিষ্টি ও কলা। শরীর বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পুরণকারী বা আমিষ জাতীয় খাবারের মধ্যে সস্তা খাবার যেমন ছোট মাছ, কাঠালের বীচি, চিনাবাদম, শুকটি মাছ এবং শরীর বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পুরণকারী দামী খাবার যেমন মায়ের বুকের দুধ, বড় মাছ, দুধ, কলিজা, ডিম, মাংস ও পনির।

উল্লেখিত শক্তিদায়ক খাবার, বৃদ্ধি সাধক ও ক্ষয়পুরণকারী খাবার ও রোগ প্রতিরোধক খাবার এ ৩  শ্রেণির খাবার থেকে প্রতিদিন ২/৩ ধরনের খাবার খাওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তথাপি খাবারগুলো নিজের বাড়িতে এবং বাড়ির আশে-পাশে জমিতে চাষ করার জন্য সেমিনারে উৎসাহিত করা হয়। সেমিনারের শিক্ষক/শিক্ষিকা, এনজিও কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি গণ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপিরাইট সুবর্ণবার্তা !!
Close
Close