সুবর্ণচরে ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে অসহায় শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিজের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমিতে কতিপয় ভূমিদস্যুদের দখল থেকে মুক্তি পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুবর্ণচর উপজেলার শহীদ জয়নাল আবেদিন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শফিকুর রহমান। “মাথায় বারি দিলে, মাথা ধরবেন, নাকি জমি ধরবেন”? ভূমি দস্যুদের এমন হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবী করেন ভুক্তভোগি শিক্ষক শফিকুর রহমান।

১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় সুবর্ণচর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অসহায় শিক্ষক ও তার পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সফিকুর রহমান বলেন,” আমি অত্যান্ত অসহায় হয়ে আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, আমি সুবর্ণচর উপজেলার হারিছ চৌধুরী বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছি, নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় আমি এবং আমার ছোট ভাই আবু ছায়েদ পারিবারিক সহযোগিতায় সৎ উপার্জনের অর্থ দিয়ে সামান্য কিছু জায়গা বাড়িঘর করার জন্য জমি ক্রয় করার উদ্যোগ নিলে এলাকার ভুমি দালাল নুর নবী মফিজ ওরপে নুথি মফিজ অন্যর জমি ক্রয় করার জন্য আমার কাছে কিছু কাগজ নিয়ে আসে, আমি কাগজ পত্র দেখে ঐ দিনেই জমি দেখে আসি তখন সে আমাকে জমির মূল্যে ১৫ লক্ষ টাকা দাম বললে আমি নিতে অস্বীকৃতি জানাই পরে খবর নিয়ে দেখি জমির প্রকৃত আমার আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক দেলোয়ার স্যারের মেয়ের জামাইয়ের জমি, তখন প্রকৃত মালিকের সাথে কথা বলে সাড়ে ৯ লাখ টাকা দামে পশ্চিম চরজুবিলী মৌজার পেটি জরিফ খতিয়ান নং ৪৫৯৪ এবং ২৪৪৯ নং খতিয়ানে যথাক্রমে ২ একর ৫০ ও ২ একর ৪৪ মোট ৪ একর ৯৪ উক্ত জমির দিয়ারা খতিয়ানের ২ একর ৫০ জমি রেকর্ড লিপিবদ্ধ হয়। এবং বর্তমানে উক্ত জমির জোনাল জরিফি ৫৮০ নং খতিয়ানে৩ একর ১১ ও ১২৪৬ ডিপি খতিয়ানে ১ একর ৪১ জমি রেকর্ড ভুক্ত হয়েছে এবং উক্ত জমির চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা ২০/১/১৯ সালে উক্ত জমি ১৫১ ও ১৫২ নং দলিল মূলে মো: আলী আকবর বাবলু ও ফারজানা ইয়াসমিন থেকে খরিদসূত্রে মালিক দখলকার হই ।

জমি কেনার পর আমি কেন সরাসরি মালিক থেকে জমি ক্রয় করেছি তাতে দালাল মফিজ তার দালালী না পেয়ে কিছু স্থানীয় ভুমিদস্যুসহ ভূয়া দলিল সৃজন করে ও জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে তার দালালীর ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে নয়তো আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে, ইতিপূর্বে আমি ঐ ভূমি দস্যু চাঁদাবাজ মফিজের বিরুদ্ধে নোয়াখালী জজ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করি মামলা নং ৭৫/২০। মামলাটি এখনো চলমান।

সম্প্রতি তার লোকেরা আমাকে ডেকে বলে “বাজার করতে আসলে পোলাপান দিয়ে যদি পিচন থেকে বারি দেয়, তখন কি মাথা ধরবেন, বাজারের ব্যাগ ধরবেন, ডাক্তারের কাছে যাবেন নাকি জমি ধরবেন”। এমন হুমকিতে বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও ভুমির দালাল সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজুবিলী গ্রামের মৃত আলী আকবরের পুত্র নুর নবী মফিজ ওরপে নুথি মফিজের অত্যাচারে নির্যাতনে অনেক পরিবার তাদের ভিটে বাড়ি হারিয়েছে, একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে এলাকায় তার ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা। আমি আমার জীবনের শঙ্কার সত্বেও শিক্ষক জীবনের শেষ সম্বল রক্ষার জন্য আপনারা সাংবাদিকের ধারস্থ হয়েছি। আপনাদের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমি বঙ্গবন্ধু কণ্যা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, ভূমি মন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, সদর-সুবর্ণচর (নোয়াখালী ৪) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক, নোয়াখালী জেলা ভূমি কর্মকর্তা, সুবর্ণচর উপজেলা ভূমি অফিস, সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসন, চরজব্বার থানাসহ সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনকে সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহণের বিনীত অনুরোধ করছি।

অভিযুকক্ত নুর নবী মফিজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অশিকার করে বলেন, “উনার জমির দাগ আলাদা আমার জমির দাগ আলাদা, আমি তার কোন জমি দখল করিনি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহেদ উদ্দিন বলেন,”এবিষয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি, আমার জানা নেই, যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে, ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

Updated: November 12, 2020 — 5:01 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *