হাতিয়ার চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের অভাব

এ,কে,এম ইব্রাহিম খলিল উল্যাহ ও জি.এম.সিরাজ উদ দৌলা, হাতিয়া থেকে ফিরে: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার  নঙ্গলিয়া, নলেরচর,কেয়ারিংচর ঘুরে দেখা যায়, শৌচাগারের বেহাল দশা। স্থানীয় বেশকিছু পরিবার খাল-বিল, নদী-নালার সাথে সংযুক্ত করে স্থাপন করেছে খোলা ল্যাট্রিন। এ খোলা ল্যাট্রিনের কারণে যেমনিভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তেমনি স্থানীয় জনগণও আক্রান্ত হচ্ছে নানান রোগে। এরমধ্যে পানিবাহিত রোগ উল্লেখযোগ্য আকারে বাড়ছে।

স্থানীয় ও প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণেই খোলা ল্যাট্রিন স্থাপন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন কার্যক্রম সফল করার জন্য সরকারি-বেসরকারি বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও এখানে চোখে পড়ার মতো কিছুই নেই। অথচ সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি বাড়িকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আনা। স্যানিটেশন কার্যক্রম সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এবং পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কার্যক্রমকে বেগবান করতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কার্যকর নীতিমালা এবং কৌশলপত্র ইতোমধ্যে প্রণীত হয়েছে।

এরমধ্যে জাতীয় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নীতিমালা-১৯৯৮, জাতীয় আর্সেনিক নীতিমালা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা-২০০৪, জাতীয় স্যানিটেশন কৌশলপত্র-২০০৫, সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ২০১১-২৫, হাইজিন প্রোমোশন কৌশলপত্র-২০১২উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ এশিয়ার আটটি রাষ্ট্রের স্যানিটেশন ও পানি ব্যবস্থাপনায় সাউথ এশিয়ান কনফারেন্স অন স্যানিটেশন (স্যাকোসেন) একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম। যার মাধ্যমে কিভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজস্ব দেশে শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা যায়, তার পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা। জাতীয় স্যানিটেশন কৌশল ও পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন খাতের মেট্রো ডেভলপম্যান্ট প্ল্যান্ট (২০১১-২০১৫) প্রণয়ন করা হয়। তাছাড়া প্রতিটি সরকারই সকলের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।

এতোকিছুর পরও আমাদের স্যানিটেশন পরিস্থিতি আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। দেশে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিনশ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয় শুধু পানি আর সুষ্ঠু স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাবে। স্যানিটেশনের সুব্যবস্থা হলে পানিবাহিত রোগ হ্রাস পাবে ৭৭ ভাগ। জানা যায়, উপকূলীয় চরে ভূমিহীন মানুষের বাসস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্য ও জীবনমান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট (সিডিএসপি) কাজ করে যাচ্ছে। জেগে ওঠা চরে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪ হাজার ১৬২টি অতিদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ৪৪ হাজার ৪১০ একর ভূমি বিতরণ ও বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। চরাঞ্চলে জীবনমান উন্নতি ঘটালেও স্বাস্থ্যসুবিধায় এখনো পিছিয়ে এ অঞ্চলের জনসাধারণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক জানান, সরকারি -বেসরকারি সংস্থা যে যার মত স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ করার ফলে কেউ পাচ্ছে আর কেউ পাচ্ছে না। ফলে আশা অনুযায়ী ফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পরিবারে দুই থেকে তিনটি ল্যাট্রিন রয়েছে, অন্যদিকে বেশ কিছু পরিবারে রয়েছে খোলা ল্যাট্রিন। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতাও কম।

এআর/সুবর্ণবার্তা

Updated: June 5, 2020 — 11:22 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *