প্রচ্ছদ

২৮ রোহিঙ্গা জায়গা হলো ভাসানচরে

অনলাইন ডেস্ক: একটি ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে কিছু রোহিঙ্গা টেকনাফে ঢুকে পড়ে। পরে শনিবার গভীর রাতে ওই রোহিঙ্গাদের কোস্ট গার্ড নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে গেছে। সেখানে তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। আবারও কোনো রোহিঙ্গাকে সাগরে পাওয়া গেলে তাদের ভাসানচরে পাঠানো হবে।

কক্সবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে শনিবার ভোরে ৪০ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকা কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া প্যারাবনে ভেড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২৮ রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় এক মানব পাচারকারীকে উদ্ধার করে। তাদের কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। পরে কোস্ট গার্ড মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে ভাসানচরে নিয়ে যায়।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, ২৮ জন রোহিঙ্গার দলটিকে শনিবার দিবাগত রাতে ভাসানচরে নিয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আপাতত তাঁরা সেখানে থাকবেন। আশ্রায়ণের যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাঁর অধীনে রোহিঙ্গারা থাকবেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের খাবার-দাবারের বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।

এদিকে ভাসানচরে দায়িত্বপালনকারী একজন কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গাদের আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ক্লাস্টার হাউসে আলাদা রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫টি শিশু, ১৯ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ।

মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে শ’ পাঁচেক রোহিঙ্গা দুই সপ্তাহ ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে গভীর সমুদ্রে। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার নাম করে নারী-শিশুসহ নানান বয়সের এসব রোহিঙ্গাকে ট্রলারে উঠিয়েছিল পাচারকারীরা। কিন্তু মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ৫০০ রোহিঙ্গাবোঝাই ট্রলার দুটিকে উপকূলে ভিড়তে দেয়নি। উপায় না দেখে পাচারকারীরা এদের নিয়ে এপ্রিলের ২৩ তারিখ ঢুকে পড়তে চেয়েছিল টেকনাফের বাহারছড়া দিয়ে বাংলাদেশের উপকূলে। এখানেও বিধিবাম। আবারও গভীর সমুদ্রে ফিরে যেতে হল ট্রলার দুটিকে। এদিকে আশ্রয় দিতে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে চিঠি লিখেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও একই দাবি করছে। আর বাংলাদেশের একটাই কথা, এরা এ দেশের জলসীমায় নেই। নিতে হলে এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলো নিক।

Related Articles

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপিরাইট সুবর্ণবার্তা !!
Close
Close