সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে চলতি মাসে

0
197

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি শুরুর কথা ছিল জুলাই থেকে। কিন্তু প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে শেষ পর্যন্ত চলতি (আগস্ট) মাসে শুরু হচ্ছে।

পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট) এটি শুরু হবে চার শ্রেণির মানুষের জন্য। তারা হচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশি, বেসরকারি চাকরিজীবী, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মী এবং অসচ্ছল ব্যক্তিরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পেনশন কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, পেনশন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে প্রথমে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। এটি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এরপর এর কার্যালয় নিতে হবে। এর একটি সার্ভার তৈরি করতে হবে। কারণ এক সময় এই কর্মসূচির আওতায় সবাই আসবেন। তাদের ডাটা সংরক্ষণ, মাসিক ফি আদায়, ঋণ দেওয়া, পেনশনের টাকা পরিশোধ মিলে এক ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রমের মতো এখানে কাজ চলবে। সেগুলো মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, পেনশন কর্মসূচিতে যোগদানের যোগ্যতা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিধিমালা এবং জাতীয় পেনশন কর্মসূচি (স্কিম) বিধিমালা নামের তিনটি বিধিমালার প্রজ্ঞাপনের খসড়াও তৈরি হয়ে আছে। পেনশন কর্মসূচি চালুর আগে এসব প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

জানা গেছে, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কবিরুল ইজদানী খানকে নিজ দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত কাজ হিসাবে কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অবশ্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকেই দেশে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হবে।

সূত্র জানায়, পেনশন কর্মসূচি চালুর আগে পাঁচটি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) হবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের। এগুলো হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, সোনালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড। এসব এমওইউর খসড়া হয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় পাওয়া গেলেই দপ্তরগুলোর সঙ্গে পেনশন কর্তৃপক্ষের এমওইউ হবে।

জানা গেছে, ১৮ থেকে ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সিদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা থাকবে। মাসিক চাঁদা হতে পারে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে কর্মসূচি পরিবর্তন এবং চাঁদার পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ থাকছে। পেনশন ব্যবস্থায় নগদ টাকায় কোনো লেনদেন হবে না। সব কর্মকাণ্ড হবে অনলাইনে।

Facebook Comments Box
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here